Home News চীনের মহাকাশ স্টেশনে সবজিবাগান ফলিয়ে রহস্যের সৃষ্টি

চীনের মহাকাশ স্টেশনে সবজিবাগান ফলিয়ে রহস্যের সৃষ্টি

মহাকাশে নভোচারী ছোট্ট কাপ থেকে তাজা লেটুসপাতা ছিঁড়ে খাচ্ছেন। চীনের স্পেসস্টেশন থিয়ানকোংয়ের ভিতরে শেনচৌ ১৬ এর নভোচারীরা এই লেটুস পাতা খেয়েছেন।

by Newsroom
চীনের মহাকাশ স্টেশনে সবজিবাগান ফলিয়ে রহস্যের সৃষ্টি

স্পেসটেটর ডেস্ক।।

মহাকাশে সবজি বাগান। শুনলে মনে হয় সায়েন্স ফিকশন। কিন্তু বাস্তবে এই সবজি বাগান গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

মহাকাশে নভোচারী ছোট্ট কাপ থেকে তাজা লেটুসপাতা ছিঁড়ে খাচ্ছেন। চীনের স্পেসস্টেশন থিয়ানকোংয়ের ভিতরে শেনচৌ ১৬ এর নভোচারীরা এই লেটুস পাতা খেয়েছেন।

মহাকাশে স্পেস স্টেশনের ভিতরে যেন সবজি চাষ করা যায় সেই গবেষণাও চলছে চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে। মহাকাশ স্টেশনের ভিতরে স্বল্প পরিসরে ছোট ছোট কাপে চাষ করা যায় বিভিন্ন রকম সবজি।

চায়না অ্যাস্ট্রোনট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের গবেষক ইয়াং রেনজে বলেন,  ‘আলোর ব্যবস্থা তিন রঙের রশ্মি দিতে পারে । লাল, নীল ও সাদা। সঠিক ফ্রিকোয়েন্সি ও ঘনত্বের আলোকরশ্মি দিয়ে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় আলোকব্যবস্থা সৃষ্টি করা যাচ্ছে। এই কাপের আকৃতির চাষ ডিভাইসগুলোর ভিতরে উদ্ভিদের শিকড় জায়গা করে নিতে পারে সুবিধাজনকভাবে। মাটি সদৃশ উপাদানকে বলা হয় সাবস্ট্রেট যা প্রথমে শুকনো থাকে। কক্ষপথে নভোচারীরা পানি দেয়ার পর এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য উপযোগী হয়।’

গবেষকরা এখন গবেষণা করছেন নতুন প্রজন্মের মহাকাশভিত্তিক সবজি চাষ প্রযুক্তির উপর।

২০১৬ সালের শেনচৌ ১১ মিশন এবং ২০২২ সালের শেনচৌ ১৪ মিশনে নভোচারীরা মহাকাশ স্টেশন থিয়ানকোং এর ভিতরে  লেটুস, গম, ধান এবং অ্যারাবিডোপসিস জন্মাতে পেরেছিলেন। উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য সাবস্ট্রেট ব্যবহার করা হয়।  এই সাবস্ট্রেট রিসাইকেল করাও সম্ভব।

ইয়াং রেনজে আরও বলেন, ‘উদ্ভিদ জন্মের পর , যে অংশটা ব্যবহার হয় না সেটা গুড়ো করে এবং কমপ্রেস করে সাবস্ট্রেট ব্লক বানানো যায়।নভোচারীরা পানি দেয়ার ফলে উদ্ভিদ জন্মানোর পর খানিকটা জায়গা পাওয়া যায়। এরমধ্যে সাবস্ট্রেটে কয়েক ধরনের ধীরে বের হওয়া সার থাকে। এই ফার্টিলাইজার উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেয়। নভোচারীরা যে পানি পান করেন সেই একই পানি উদ্ভিদে দেয়া হয়।’

ভবিষ্যতে এই মহাকাশ সবজি খামার থেকে নভোচারীরা খাবার, অক্সিজেন এবং পানি পাবেন। পাশাপাশি এটা নভোচারীদের গবেষণার প্লাটফর্মও তৈরি করবে। উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য পরিবেশের প্রভাব, মাইক্রোগ্র্যাভিটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি, গঠন ও জৈব রসায়নে কি ধরনের প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে মূল্যবান গবেষণা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও করা যাবে। লেটুস, টমেটোসহ অনেক ধরনের সবজিচাষ সম্ভব হচ্ছে এই গবেষণা খামারে।

 

আরও পড়ুন: মহাকাশে মানবদেহে যে পরিবর্তন ঘটে

Related News