Home News নভোচারীর একাকিত্ব কাটাতে মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছে ভিআর হেডসেট

নভোচারীর একাকিত্ব কাটাতে মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছে ভিআর হেডসেট

“মিশনের সময় নভোচারীরা বেশ কয়েক মাস, এমনকি বছরজুড়েও, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকেন। আর তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায়ও সীমিত থাকে।”

by Newsroom
নভোচারীর একাকিত্ব কাটাতে মহাকাশ স্টেশনে যাচ্ছে ভিআর হেডসেট

স্পেসটেটর ডেস্ক।।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী একাকিত্ব দূর করতে নাসার পরবর্তী মিশনে পাঠানো হবে একটি ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেট।

নভোচারীর মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে প্রথমবারের মতো মহাকাশ স্টেশনে ভিআর হেডসেট পাঠাচ্ছে মার্কিন এই গবেষণা সংস্থা। ভূপৃষ্ঠ থেকে দূরে থাকার ফলে তৈরি প্রতিকূল মানসিক পরিবেশের ভোগান্তিকে এ সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

“মিশনের সময় নভোচারীরা বেশ কয়েক মাস, এমনকি বছরজুড়েও, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকেন। আর তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের উপায়ও সীমিত থাকে।” –বলেন মহাকাশ গবেষণা কোম্পানি ‘নর্ড-স্পেস অ্যাপস’-এর প্রযুক্তি প্রধান পার লুন্ডাল টমসেন।

“এ সময়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করবে, এমন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলে সেটি নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসার পর তাদের সুস্থ জীবনধারায় ফেরার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”

‘এইচটিসি ভাইব’ নামের বিশেষ হেডসেটটি সবার আগে পরার সুযোগ পাবেন ডেনমার্কের  নভোচারী আন্দ্রেয়াস মজেনসেন। আসন্ন ৯ নভেম্বর স্পেসএক্স-এর ‘সিআরএস-২৯’ সরবরাহক মিশনের অংশ হিসেবে হেডসেটটি পাঠাবে নাসা।

আইএসএস-এ ভিআর হেডসেট ব্যবহারের প্রথম ঘটনা নয় এটি। তবে, এর আগের পরীক্ষাগুলোয় মহাকাশ স্টেশনে থাকা মাধ্যাকর্ষণ সংশ্লিষ্ট সমস্যার কারণে ‘মোশন সিকনেস’-এর মতো ফলাফলও দেখা গেছে।

তবে, নতুন ট্র্যাকিং প্রক্রিয়ায় হেডসেটের কন্ট্রোলার নিজে নিজেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।

“আমাদের দল এইসব বিশেষ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে হেডসেট এমনভাবে কনফিগার করেছে, যার মাধ্যমে এটি মাইক্রোগ্র্যাভিটি অবস্থাতেও কাজ করবে। এ ছাড়া, ভিআর খাতেও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এটি।” –বলেন এইচটিসি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন চার ওয়াং।

“নভোচারীরা এতে পৃথিবীর মতো একই ধরনের মানসিক সুবিধা পাবেন। এটা একটা যুগান্তকারী মূহুর্ত।”

ব্রিটিশ সংবাদপত্র ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি)’, ‘হাইটফোবিয়া’ ও এমন অন্যান্য মানসিক সমস্যা নিরসনের জনপ্রিয় উপায় হয়ে উঠছে ভিআর থেরাপি।

সম্প্রতি, ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চালানো ৩১টি গবেষণা জরিপ করে দেখা গেছে, ভিআর ব্যবহার করা ব্যক্তিদের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট দক্ষতা বা আচরণ শেখার প্রবণতা বেশি, যা তাদের মানসিক অবসাদ কমিয়ে আনার বেলাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

 

আরও পড়ুন: মহাকাশ পরিকল্পনা নিয়ে স্পেনে কী আলাপ করছে ইউরোপ?

Related News