Home Feature প্যালেস্টাইন-১ মহাকাশে পাঠাতে চান বায়ান

প্যালেস্টাইন-১ মহাকাশে পাঠাতে চান বায়ান

এ কারণে গণ-তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি স্টিম প্রচারণা শুরু করেছেন

by Newsroom
Bayan Abusalameh

নাসরিন শওকত ।। প্যালেস্টাইনি মেকানিক্যাল প্রকৌশলী বায়ান আবুসালামেহ। প্যালেস্টাইনের পশ্চিম তীরের প্রাদেশিক রাজধানী শহর জেনিনের ১১ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম ফাকুয়া। এই গ্রামের মেয়ে বায়ান সালামেহ। শৈশব থেকেই নক্ষত্রের গতিবিধি আর মহাকাশের অপার রহস্য বায়ান সালামেহকে কৌতূহলী করত। কিশোর বয়সেই পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত হয়ে এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কারের স্বপ্ন দেখতেন, যা মহাবিশ্বের অনেক রহস্য উন্মোচন করতে সহায়তা করবে। ২৫ বছর বয়সে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে মেকানিক্যাল প্রকৌশল বিদ্যায় পিএইডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এর আগে ২০২১ সালে লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে  স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করনে বায়ান। তার একমাত্র লক্ষ্য গবেষণা শেষ করে সফলতার সঙ্গে প্যালেস্টাইন-১ কে মহাকাশে পৌঁছে বিশ্বের নিপীড়িত জাতি প্যালেস্টাইনের প্রতিনিধিত্ব করা।

২০২১ এর অক্টোবরে বায়ান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে  তার স্নাতকোত্তরের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। ওই গবেষণায় প্রথমবারের মতো প্যালেস্টাইনের  কিউব স্যাটেলাইটের (খুদে উপগ্রহ) কাঠামো নকশা সফলতার সঙ্গে তৈরি করেন। বায়ান প্যালেস্টাইনের ভৌগোলিক আদলে তৈরি তার কিউব স্যাটেলাইটের নাম দিয়েছেন প্যালেস্টাইন-১। তার এ আবিষ্কার বিশ্বের অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। লন্ডনে যাওয়ার আগে বায়ান রামাল্লার বিরজাইত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। বায়ান তার গবেষণা প্রকল্প ‘প্যালেস্টাইন-১’  ইতিমধ্যে সফলতার সঙ্গে শেষ করেছেন। এর পুরস্কার হিসেবে ব্রিটিশ সরকার থেকে বায়ান সালামাহ ‘চেভেনিং স্কলারশিপ’ পেয়েছেন। কিউব স্যাটেলাইটের সহায়তায় তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ‘জলবায়ু পরিবর্তন’-এ ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান। আগামী তিন বছরের মধ্যে প্যালেস্টাইন -১ মহাকাশে পৌঁছাবে এ প্রত্যাশা বায়ানের।

মহাকাশ নিয়ে পড়াশোনা

মহাকাশ নিয়ে শৈশব থেকে তার আবেগের কথা বলতে গিয়ে বায়ান জানান, ‘আমি যখন একেবারে শিশু তখন থেকেই মহাকাশ নিয়ে আমার আগ্রহের শুরু। সে সময় থেকেই আমি টেলিস্কোপ দিয়ে নক্ষত্রের গতিবিধির ওপর নজর রাখতাম। যখন নক্ষত্রগুলো বৃত্তাকারে ঘুরত, তখন মনে হতো তারা যেন আমার চারপাশে ঘুরছে। তখন থেকেই আমি মহাকাশের রহস্য জানতে কৌতূহলী হয়ে উঠি। আমি সব সময় একজন নভোচারী হতে চাইতাম। এই স্বপ্ন আমার কিশোর বয়সে আরও গুরুত্ব পায়। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাই, আমার মনে হলো আমি যেন আমার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আর যখন আমার স্নাতকোত্তরের গবেষণাপত্র নিয়ে কাজ করছিলাম, তখন মনে হলো যেন সেই স্বপ্নের আরও কাছে চলে এলাম।’ হকিংয়ের আবিষ্কারই বায়ানকে মহাকাশ বিষয় নিয়ে পড়ার আকাক্সক্ষা তৈরিতে উৎসাহ জুগিয়েছিল। বায়ান বলেন, ‘আমার যখন ১৫ বছর বয়স, তখন আমি স্টিফেন হকিংয়ের সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের সারসংক্ষেপ পড়ে ফেলি। এর পরই উপলব্ধি করতে পারি যে বাকি জীবনে আমি কী করতে চাই।’

বায়ান রামাল্লার স্থানীয় কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পড়া শেষ করেন। লন্ডনে যাওয়ার আগে ২০১৮ সালে তিনি রামাল্লার বিরজাইত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রিও অর্জন করেন। স্নাতক ডিগ্রি শেষ করার পর বায়ান আন্তর্জাতিক চেভেনিং স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেন। ১৬০টি দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাদের নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ থাকে কেবলমাত্র তাদের এই মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপের জন্য মনোনীত করা হয়। ওই শিক্ষার্থীদের অবশ্যই যুক্তরাজ্য থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে আগ্রহী হতে হবে। চেভেনিং স্কলারশিপ পাওয়ার পর আনন্দে আত্মহারা বায়ান বুঝতে পারেন, বিরজাইত বিশ্ববিদ্যালয়ে করা স্বেচ্ছাসেবামূলক অতিরিক্ত কাজই তাকে এই পুরস্কার এনে দিয়েছে। সে সময়ে তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন। বায়ান ওই সেবামূললক কাজের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মেলামেশার যেমন সুযোগ পান, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের সময় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেওয়ার সুযোগও অর্জন করেন।

যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়া

চেভেনিং স্কলারশিপ পাওয়ার পর বায়ান তার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিতে যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়া শুরু করেন। সে সময় তিনি বেশ কিছু সমন্বিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। এ চ্যালেঞ্জের মধ্যে করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও গবেষণাগার বন্ধ ছিল। একই সময়ে পূর্ব জেরুজালেমের প্যালেস্টাইনি অধ্যুষিত এলাকা শেখ জাররাহে ব্যাপক সহিংস ঘটনাও ঘটে। শেখ জাররাহ জেরুজালেমের পুরনো শহর (ওল্ড সিটি) থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। ২০২১ এর ঠিক ওই সময়টাতেই শেখ জাররাহ থেকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্যালেস্টাইনিদের উচ্ছেদের চেষ্টা চালায়। এ উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সে সময় কয়েক সপ্তাহব্যাপী  সহিংসতা চলে। এদিকে একই সময়ে অধিকৃত গাজা ভূখণ্ডেও ইসরায়েলি বাহিনী ১১ দিন ধরে নৃশংস হামলা চালায়। এ হামলায় ৬৬ শিশুসহ মোট ২৫৬ জন প্যালেস্টাইনি নিহত হয়েছিল।

প্যালেস্টাইনের সে সময়ের ওই ঘটনাগুলো প্রবাসে থাকা বায়ানকে ভীষণ মানসিক চাপে ফেলে দেয়। তবে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উৎসাহ তাকে ওই চাপ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। ওই ঘটনাগুলো তাকে তার গবেষণাপত্র ও পরীক্ষায় মনোযোগ দিতে আরও প্রত্যয়ী করে তুলেছিল। সে সময়ে তরুণ প্রকৌশলীদের কাছ থেকে পাওয়া নেতিবাচক মন্তব্যও বায়নের জন্য অন্যরকম চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। যা কখনো কখনো তার আত্মবিশ্বাসের ভিতকে নাড়িয়ে দিত ।

এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে প্যালেস্টাইনের কিউব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর ঘোষণা দেন। বায়ান জানান, ‘আমি শেষ পর্যন্ত করতে পেরেছি। কিউব স্যাটেলাইটের একটি কাঠামোগত নকশা তৈরি এবং এর গবেষণাপত্র লিখেছি। এর জন্য আমাকে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমি সর্বোচ্চ নম্বরও পেয়েছি। ওই দিনটি আমার জন্য ছিল সবচেয়ে আনন্দের। কারণ এতদিন যে জন্য আমি কাজ করেছি, তার জন্য আমি সফল হয়েছি। তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে খবরটি ভাইরাল হয়ে যায়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্যালেস্টাইনের মানুষ বায়ানের সঙ্গে তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন নেন। তারাও চান, প্যালেস্টাইন-১ কিউব স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছাক।

তাদের উৎসাহ দেখে উচ্ছ্বসিত বায়ান বলেন, ‘এই প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে প্যালেস্টাইন। বিশেষ করে বিরজাইত বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর পরিকল্পনা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন এমন শিক্ষার্থীরা। তারা স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত অস্পষ্ট ছবি নিয়ে কাজ করেন। তার উদ্ভাবিত কিউব স্যাটেলাইট মহাকাশে পৌঁছালে তাদের এমন ছবি দিয়ে আর কাজ করতে হবে না। একইসঙ্গে এই প্রকল্পে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে মধপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অঞ্চলগুলোও উপকৃত হবে।’

নারী হিসেবে বৈষম্য

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, বিশ্বজুড়ে কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ৩৫ শতাংশ পুরুষের তুলনায় মাত্র ১৮ শতাংশ নারী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল বিদ্যা ও গণিত বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পান। প্যালেস্টাইন পশ্চিম এশিয়ার দেশ। ২ হাজার ৩২০ বর্গ কিলোমিটারের  দেশটিতে ৫০ লাখ ৫১ হাজার ৯৫৩ (২০২০-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) মানুষের বাস। ১৯৬৭ সালে আরব যুদ্ধে দেশটির পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখণ্ড  দখল করে নেয় ইসরায়েল। সেই থেকে পশ্চিম তীর ও গাজা ভূখ- শাসন করে আসছিল পিএলও। এর পরে পূর্ব জেরুজালেমকেও নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় ইসরায়েল। প্যালেস্টাইন সমাজে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটা সময় মধ্যপ্রাচ্যে উচ্চশিক্ষার হার সবচেয়ে বেশি ছিল প্যালেস্টাইনে। প্যালেস্টাইনি শিক্ষার্থীদের ইসরায়েলি দলদারিত্বের মধ্যেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। প্যালেস্টাইনের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (পিসিবিএস) দেওয়া তথ্য মতে, প্যালেস্টাইনের শিক্ষার হার ১৯৯৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে এখানকার রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতাকেই দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্যালেস্টাইনি নারীদের মধ্যে শিক্ষার হার বেশি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা দ্য বোর্গেন প্রজেক্টের পক্ষ থেকে ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রচ্যে নারীশিক্ষায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে প্যালেস্টাইন। ৯৪ শতাংশ প্যালেস্টাইনি নারীই শিক্ষিত।’

তারপরও প্যালেস্টাইনের শিক্ষিত সমাজেও নারীরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হন। বায়ান সালামেহ বিরজাইত বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন মেকানিক্যাল প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন ওই বিভাগে ৭০ জন ছেলে শিক্ষার্থীর বিপরীতে তারা মাত্র চারজন মেয়ে ছিলেন। এমনকি সে সময় শিক্ষকদের কাছ থেকে বায়ানকে নানা মন্তব্য শুনতে হতো। বায়ান এসব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলেই সামনে এগিয়ে চলেছেন। চারপাশের প্রতিবন্ধকতা তার উৎসাহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

প্যালেস্টাইনি সমাজে প্রচলিত লিঙ্গ অসমতা নিয়ে বায়ান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে প্রকৌশল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে গেলে নারীদের কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয় না, অন্য সবার কাছেও এটা প্রমাণ করতে হয় যে বিষয়টি তিনি সফলতার সঙ্গেই শেষ করতে পারবেন। এর মানে হলো পুরুষ প্রকৌশলীর তুলনায় নারীকে দুইবার নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। কারণ প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকে বারবার এটাই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, এই বিষয় নিয়ে পড়ার যোগ্যতা তার নেই।’ বায়ান এমন পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তন আনার পক্ষে। তিনি সচেতনতা বাড়ানোর মধ্য দিয়েই এই লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে চান। যাতে ভবিষ্যতে পালেস্টাইনি সমাজের আরও নারী বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করার উৎসাহ বোধ করেন।

প্যালেস্টাইন-১

বায়ান এখন তার চারপাশের অনেকের দৃষ্টিভঙ্গিতেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পান। একজন নারীও যে মেকানিক্যাল ও মহাকাশ প্রকৌশল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন এমন ধারণা তাদের অনেকেই মেনে নিয়েছেন। বায়ানের গবেষণাপত্রের শিরানাম ছিল : প্যালেস্টাইন-১। কিউব স্যাটেলাইট প্যালেস্টাইন-১ এর নকশার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বায়ান আরও বলেন, ‘এই নকশা যে কেউ দেখলেই বুঝতে পারবেন যে, এটি প্যালেস্টাইনি। মূলত দেশ হিসেবে প্যালেস্টাইনের ভৌগোলিক অবকাঠামোকেই প্রাধান্য দিয়েই নকশা তৈরি করা হয়েছে। কিউব স্যাটেলাইট প্যালেস্টাইন-১ এর নামকরণ করা হয়েছে এই ধারণা থেকে।’ তিনি আরও বলেন, স্যাটেলাইট নির্মাণ প্রকল্পের জন্য মূলত কয়েক বছরের গবেষণা ও মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সফলতার প্রয়োজন হয়। আমি প্রত্যাশা করছি, আগামী তিন বছরের মধ্যে প্যালেস্টাইন-১ মহাকাশে পৌঁছাবে।’ এই স্যাটেলাইট নির্মাণের সম্ভাব্য অর্থ সহায়তা আরব বিশ্ব ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসতে পারে। প্যালেস্টাইন-১ প্রকল্পের সম্ভাব্য অর্থায়ন কীভাবে আসতে পারে তা জানিয়ে বায়ান বলেন, ‘যদি তারা আমার প্রকল্পে অর্থ সহায়তা দেন তবে তা আমার জন্য আনন্দের হবে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অর্থায়নে আগ্রহী না হয়, তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ  আমাকে সমর্থন ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা লিখে জানিয়েছেন।’ বায়ানের গবেষণার কাজ চালিয়ে নিতে তার অনেক অর্থের প্রয়োজন পড়বে। এ কারণে গণ-তহবিল সংগ্রহের জন্য তিনি স্টিম (এসটিইএম) প্রচারণা শুরু করেছেন। এ-বছরের মে মাসে বায়ান ইম্পেরিয়াল কলেজের পক্ষ থেকে এক বছরের বৃত্তি ‘২০৪৮ ফেলোশিপ’ পেয়েছেন। তবে প্যালেস্টাইন-১ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। বায়ানের আইনজীবী বর্তমানে তার এই আবিষ্কারের মেধাস্বত্ব অধিকার নিবন্ধন নিয়ে কাজ করছেন।

কিউব স্যাটেলাইট

কিউব স্যাটেলাইট হলো খুদে উপগ্রহ। এই স্যাটেলাইট বিভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য মহাকাশে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে- জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ণের বৃদ্ধি ও পানির উৎস সংরক্ষণ অন্যতম। এর কারণ অনুসন্ধানে উদ্দেশ্যগুলোকে আবার কিউব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নিরীক্ষাও করা হয়। নিজের কিউব স্যটেলাইট নির্মাণের মহৎ উদ্দেশ্য সম্পর্কে বায়ান বলেন, বিজ্ঞানের আবিষ্কারের জগতে এখনো পর্যন্ত স্যাটেলাইট কিউব নতুন এক উদ্ভাবন। বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন পন্থায় স্যাটেলাইট কিউবের কাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কারণ এ পর্যন্ত নির্মিত ১শ’টি স্যাটেলাইট কিউবের মধ্যে বর্তমানে ৪৯টি স্যাটেলাইটই ব্যর্থ হয়েছে। তাই প্যালেস্টাইনের কিউব নির্মাণের মধ্য দিয়ে আমি এর কাঠামো ও কার্যকারিতার ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। যাতে  কিউব স্যাটেলাইটের এই ব্যর্থতা রুখে দেওয়া যায়।’

গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তাদের দ্বিতীয় কিউব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। খালিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইয়াহসাত মহাকাশ গবেষণাগারে স্যাটেলাইটটির নকশা তৈরি ও নির্মাণ করেছেন। আমিরাতের এমন আবিষ্কারের অনুপ্রাণীত হয়ে বায়ান বলেন, ‘প্যালেস্টাইনিরা মহাকাশে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত। কারণ আমাদের অসাধারণ মেধা আছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চল অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই ধরনের সমস্যার জন্য আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান প্রয়োজন।

Related News