Home News মহাকাশের জঞ্জাল সাফাইয়ে ‘ক্লিয়ারস্পেস’

মহাকাশের জঞ্জাল সাফাইয়ে ‘ক্লিয়ারস্পেস’

ভবিষ্যতে ক্লিয়ারস্পেস পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশ যান তৈরি করতে চায়

by Newsroom
ক্লিয়ারস্পেস

স্পেসটেটর ডেস্ক ।। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এক সেন্টিমিটারের থেকে বড় আকারের প্রায় দশ লাখ বস্তু পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে চলেছে৷ জঞ্জালের এই বলয়ের কারণে কোনো এক সময় রকেট উৎক্ষেপণ আর সম্ভব হবে না৷

লুক পিগে ও তার স্টার্টআপ ‘ক্লিয়ারস্পেস’ সেই সমস্যার সমাধান করতে চান৷ তিনি বলেন, ‘‘স্যাটেলাইটের সংখ্যা বেড়েই চলেছে৷ তবে শুধু সংখ্যা নয়, সেগুলির গতিবেগও একটা সমস্যা৷ কোনো স্যাটোলাইট সাধারণত দেড় ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে৷ সেই সময়ে সেটি অন্য দুটি কক্ষপথের উপর দিয়েও উড়ে যায়৷ সেই স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে কোনো সমস্যা নেই৷ কিন্তু বিকল হলে সেটি অনিয়ন্ত্রিত গোলাগুলির মতো হয়ে ওঠে৷”

সেই ‘স্পেস স্ক্র্যাপ’ ঘণ্টায় প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে চলেছে৷ সেই পথে যা আসে সব ধ্বংস হয়ে যায়৷ ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এসা-র বরাত পেয়ে ক্লিয়ারস্পেস কোম্পানি এবার এমন এক রোবট তৈরি করছে, যা সেই স্ক্র্যাপ ধরে ফেলতে পারবে৷ সুইজারল্যান্ডের লোসান শহরের কাছে ছোট এই স্টার্টআপ কোম্পানি বড় আকারের আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেই সুযোগ পেয়েছে৷ লুক পিগে জানান, ‘‘মহাকাশে সহায়তার পরিষেবাই ক্লিয়ারস্পেসের লক্ষ্য৷ কোনো স্যাটেলাইটে সমস্যা দেখা দিলেই আমরা সেটি নামিয়ে এনে ক্ষতিকর হতে দেই না৷”

সবার আগে ক্লিয়ারস্পেস পুরানো এক রকেটের রেফ্রিজারেটরের মাপের একটি টুকরো সাফাই করতে চায়৷ লুক পিগে বলেন, ‘‘যে বস্তুটিকে আমরা ধরতে চাই, সেটি অনেকটা কফি ক্যাপসুলের মতো৷ আমাদের রোবট কোনো অনিয়ন্ত্রিত বস্তুর কাছে এসে পরিস্থিতি অনুযায়ী ওড়ার সেরা পথ হিসেব করে নেয়৷ তারপর বস্তুটির কাছে এসে লম্বা হাত বাড়িয়ে সেটি ধরে নেয়৷ সবশেষে বস্তুটিকে স্থিতিশীল করে, গতি কমিয়ে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করানো হয়, যেখানে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়৷”

এভাবেই আবর্জনামুক্ত মহাকাশ গড়তে ভূমিকা রাখবে ক্লিয়ারস্পেস

এভাবেই আবর্জনামুক্ত মহাকাশ গড়তে ভূমিকা রাখবে ক্লিয়ারস্পেস২০২৫ সালে প্রথম পরিকল্পিত মিশনে স্ক্র্যাপ ও রোবট একসঙ্গে পুড়ে যাবে৷ ৷ মিনি স্যাটেলাইটের ব্যবসার রমরমার কারণে এমনটা করার সময় এসে গেছে৷

এমন বাঁধাধরা নির্মাণের উপকরণের সমস্যা হলো মিনি স্যাটেলাইটের আয়ু বড়জোর তিন থেকে পাঁচ বছর৷ তারপর জঞ্জাল হিসেবে সেগুলি পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে থাকে৷ মিনি স্যাটেলাইট সমস্যা বাড়িয়ে তুললেও লুক পিগের মতে, এমন প্রযুক্তির সুবিধাও কম নয়৷ তিনি বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বে, এমনকি আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলেও নেটওয়ার্ক সৃষ্টি করা জরুরি৷ এটা অসাধারণ উদ্যোগ৷ তাই এমন প্রকল্প নিষিদ্ধ করা লক্ষ্য হতে পারে না, সেগুলিকে বরং টেকসই করে তোলার চেষ্টা করতে হবে৷”

একদিকে স্ক্র্যাপ-বিহীন মহাকাশ, অন্যদিকে বিশ্বের সব প্রান্তে ইন্টারনেট পরিষেবা – দুই স্টার্টআপের লক্ষ্য সত্যি উচ্চাকাঙ্ক্ষী৷

Related News