Home Feature মহাবিশ্বের সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের জনক সামোসের আরিস্টার্কাস কে ছিলেন

মহাবিশ্বের সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের জনক সামোসের আরিস্টার্কাস কে ছিলেন

লিখেছেন মোত্তাকিন মুন

by Newsroom
মহাবিশ্বের সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বের জনক সামোসের আরিস্টার্কাস কে ছিলেন

রাতের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র ও মহাবিশ্বকে মানুষ যুগ যুগ ধরে বুঝার চেষ্টা করে এসেছে। ধরতে চেয়েছে মহাবিশ্বের অপার রহস্যকে। ফলে দীর্ঘ হয়েছে জ্যোতির্বিদ্যার পৃষ্ঠা। এসেছে জ্যোতির্বিদ্যার মহান মহান শিক্ষক ও বিজ্ঞানী। এমনই একজন বিজ্ঞানি হলে সামোসের আরিস্টার্কাস।

তিনি ছিলেন একজন গণিতবিদ। পাশাপাশি জ্যোতির্বিদ্যায় যারা নিজের চিহ্ন রেখে গেছেন আবিষ্কারের মধ্যমেদ, তাদের মধ্যে অন্যতম  হলেন সামোসের অ্যারিস্টার্কাস। তিনি খ্রিস্টপূর্ব 310 সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মারা যান খ্রিস্টপূর্ব ২৩০ সালে । জানা যায় তিনি গ্রীসের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বৈজ্ঞানিক লেখক হিসেবে প্রাচীনকালে বেশ সুপরিচিত ছিলেন।  নিজের জীবদ্দশাতে গণিতবিদ আরিস্টার্কাস তার জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান ও গাণিতিক তত্ত্বগুলোর জন্য মিশরেও বেশ বিখ্যাত ছিলেন। তার সময়ে আরেকজন বিখ্যাত গণিতবিদ ছিলেন যাকে আমরা আর্কেমিডিস নামে চিনি।

Aristarchus of Samos - World History Encyclopedia

জীবদ্দশায় তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমাদের গ্রহ থেকে সূর্যের দূরত্ব সম্পর্কে  সঠিক পদ্ধতি বের ক্রেছিলেন। এবং তিনি তার গাণিতিক উপায়ের মাধ্যমে পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব নির্ণয় করেও দেখিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যবর্তী দূরত্বও নির্ণয় করেছিলেন। তিনিই প্রথম বিজ্ঞানী যিনি হিলিওসেন্ট্রিক তত্ত্বটি বা সূর্যকেন্দ্রীক তত্ত্ব সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনিই প্রথম বলেছিলেন যে আমাদের সৌরজগতে সূর্যই কেন্দ্রে অবস্থান করছে, পৃথিবী এই মহাবিশ্বের কেন্দ্রের কোনো ভূমিকাতে নেই। যেটা পরবর্তীতে ১৭শ শতকে এসে নিকোলাস কোপার্নিকাস বিশদভাবে প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন।  কিন্তু গ্রিসে আদিকালে খ্রিষ্টধর্ম না থাকায় আরিস্টার্কাসকে নিকোলাস কোপার্নিকাসের মতো ধর্মীয় গুরুদের কাছে নিজের জীবন দিতে হয়নি।

Aristarchus of Samos | Ancient Astronomer & Heliocentrist | Britannica

আরিস্টার্কাস নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন পৃথিবীর কেন্দ্র চাঁদের গোলকের কেন্দ্র। এর অর্থ চাঁদের কক্ষপথ আমাদের গ্রহের চারপাশে।এবং পৃথিবী এমন গোলক ছাড়া আর কিছুই নয় যা সূর্যের চারপাশে ঘোরে এবং স্থির থাকার বদলে পৃথিবী একাধিকবার চলাফেরা করে। সেই সময়ে আরিস্টার্কাসের এই সকল তত্ত্ব ও বিবরণগুলো “সূর্য ও চাঁদের আকার ও দূরত্ব” এবং “আকাশের গোলকের বিপ্লব” নামে বেশ পরিচিত ছিলো। তার কাজগুলো সেই সময়ের বিবেচনায় এতটাই উন্নত ছিলো যা আজকের এই সময়েও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনিই প্রথম ব্যাক্তি ছিলেন যিনি দাবি করেছিলেন যে নক্ষত্রগুলি প্রায় অসীম দূরত্বে অবস্থান করে এবং সেগুলি স্থির।

পাশাপাশি প্রাচীনকালে অধিকাংশ জ্যোতির্বিদরা ভাবতো পৃথিবী হচ্ছে মহাবিশ্বের কেন্দ্র। কিন্তু সামোসের আরিস্টার্কাসই প্রথম ব্যক্তি যিনি বুঝতে সহায়তা করেছিলেন পৃথিবী তো নয়ই এমনকি সূর্যও এই সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের কেন্দ্র নয়। তবে মহাবিশ্বের সঠিক কেন্দ্র নিয়ে তিনি তখন এর বেশি ধারণাও তখন দিতে পারেননি।

সময়ের পরিক্রমায় তার সেই সকল তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ অধিকাংশই হারিয়ে যায়। তবে অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে তার অল্পকিছু তত্ত্ব ও কাজের পান্ডুলিপি আলেকজান্দিয়া ও মিশরের লাইব্রেরীতে খুঁজে পাওয়া যায়।

 

আরও পড়ুনঃ মহাকাশে এবার হবে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র

 

 

Related News