Home News মঙ্গল গ্রহে বাড়ি নির্মাণের ইট বানালো ভারত

মঙ্গল গ্রহে বাড়ি নির্মাণের ইট বানালো ভারত

চাঁদের কাদামাটি থেকে একইভাবে ইট তৈরি করা হয়েছিল

by Newsroom
মহাকাশের ইট তৈরি করতে মঙ্গল গ্রহের সিমুল্যান্ট মাটি (MSS) এবং ইউরিয়া ব্যবহার করেছেন

স্পেসটেটর ডেস্ক ।। মঙ্গল গ্রহে বাড়ি বানানোর ‘অন্তরীক্ষ ইট’ তৈরি করে ফেললেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। বেঙ্গালুরুভিত্তিক ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (IISc) এবং ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO)-এর বিজ্ঞানীরা ‘অন্তরীক্ষ ইট’ বা মহাকাশের ইট তৈরি করতে মঙ্গল গ্রহের সিমুল্যান্ট মাটি (MSS) এবং ইউরিয়া ব্যবহার করেছেন। এই মহাকাশের ইট মঙ্গল গ্রহে বিল্ডিং বা বাড়ির মতো কাঠামো তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তা যদি হয়, এটি লাল গ্রহে মানুষের বসতি স্থাপনের উপযোগী করে তোলা যাবে।

ক্যালসিয়াম কার্বনেট ক্রিস্টালে পরিণত হয়

গবেষণা জার্নাল PLOS ONE-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গেছে, এই স্পেস ব্রিকস তৈরির পদ্ধতির রূপরেখা দেয়া হয়েছে। প্রথমে মঙ্গলের মাটিতে গুয়ার গম, স্পোরোসারসিনা পাস্তুরি নামক ব্যাকটেরিয়া, ইউরিয়া এবং নিকেল ক্লোরাইড (NiCI2) মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করা হয়। এই দ্রবণটি কয়েক দিনের মধ্যে যে কোনও আকারের ছাঁচ এবং ব্যাকটেরিয়াতে ঢেলে দেয়া যেতে পারে; ইউরিয়াকে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের ক্রিস্টালে রূপান্তরিত করে। এই ক্রিস্টালগুলি, ব্যাকটেরিয়া দ্বারা নিঃসৃত বায়োপলিমারগুলির সঙ্গে মাটির কণাগুলিকে একত্রে আবদ্ধ করে।

ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়

এই পদ্ধতির একটি সুবিধা হল ইটগুলির কম ঘনত্ব, অর্থাৎ সঠিক পরিমাণে পানি এবং মাটি। কারণ অন্য উপায়ে তা অর্জন করা কঠিন। মঙ্গলের মাটিকে ইটে রূপান্তর করার জন্য এটি করা প্রয়োজন। IISc-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষক অলোক কুমার বলেছেন, ‘ব্যাকটেরিয়া তাদের নিজস্ব প্রোটিন ব্যবহার করে কণাকে একত্রে আবদ্ধ করে। পোরোসিটি কমায়। শক্তিশালী ইট তৈরিতে সাহায্য করে।’

চাঁদের কাদামাটি থেকে একইভাবে ইট তৈরি করা হয়েছিল

গবেষকরা একই পদ্ধতি ব্যবহার করে চাঁদের মাটি থেকে ইট তৈরিতে কাজ করেছিলেন। পূর্ববর্তী পদ্ধতিটি শুধুমাত্র নলাকার ইট তৈরি করতে পারে, যেখানে বর্তমান স্লারি-ঢালাই পদ্ধতিটি জটিল আকৃতির ইটও তৈরি করতে পারে। স্লারি-কাস্টিং পদ্ধতিটি IISc-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কৌশিক বিশ্বনাথনের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
অধ্যাপক ব্যাখ্যা করেছেন যে এই পদ্ধতিতে মঙ্গল গ্রহের মাটি ব্যবহার করা চ্যালেঞ্জিং ছিল, কারণ লাল গ্রহের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে, যা জীবের বিষাক্ততা সৃষ্টি করে। শুরুতে ব্যাকটেরিয়া একেবারেই জন্মায়নি। নিকেল ক্লোরাইড যোগ করে মাটিকে ব্যাকটেরিয়ার জন্য আরও উপযোগী করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

ইটের বিশেষ তদন্ত হবে

গবেষকরা মহাকাশের ইটের শক্তিতে মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল এবং কম মধ্যাকর্ষণ প্রভাব তদন্ত করার পরিকল্পনা করেছেন। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর তুলনায় ১০০ গুণ পাতলা। এটি ৯৫%-এর বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছৈ, যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। গবেষকরা MARS (Martian Atmosphere Simulator) নামে একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা একটি কেবিন নিয়ে গঠিত, যেটি পরীক্ষাগারে মঙ্গলগ্রহে পাওয়া যায়, এমন বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি তৈরি করে।
গবেষকরা একটি ল্যাব-অন-এ-চিপ ডিভাইসও তৈরি করেছেন যা মাইক্রোগ্রাভিটি অবস্থার অধীনে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকলাপ পরিমাপ কের। IISc-এর DBT-Biocare ফেলে এবং গবেষণার প্রধান গবেষক রশ্মি দীক্ষিত বলেছেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে মাইক্রো-গ্রাভিটি পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালানোর আমাদের উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে ডিভাইসটি তৈরি করা হচ্ছে।’ ISRO-এর সাহায্যে, দলটি মহাকাশে এই জাতীয় যন্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, যাতে তারা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে কম মধ্যাকার্ষণ প্রভাব অধ্যয়ন করতে পারে।

Related News